দিঘা যাওয়ার পথে মৃত তৃণমূলের চার নেতা-কর্মী

11th January 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
দিঘা যাওয়ার পথে মৃত তৃণমূলের চার নেতা-কর্মী


দিঘায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য দলবেঁধে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে গাড়িতে রওনা হয়েছিলেন হুগলির খানাকুলের কিশোরপুর পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের ৬ নেতা-কর্মী। কিন্তু বুধবার রাতে তমলুকের রামতারক হাটের কাছে হলদিয়া-মেচেদা ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে লরির সঙ্গে তাঁদের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল ৪ জনের। জখম দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২ জনকেই কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রামতারক হাটের কাছে হলদিয়া-মেচেদা জাতীয় সড়কে উঠে এসেছে গ্রামের ভিতরের মোরাম রাস্তা। পুলিশ জানিয়েছে, রাত ২টো নাগাদ ওই সড়ক ধরে যখন দিঘার দিকে যাচ্ছিল গাড়িটি। সেই সময় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ওই মোরাম রাস্তার ধারে মাছের আড়ত থেকে একটি লরি আচমকাই সড়কে উঠে আসে। নিমেষে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওই গাড়ি সঙ্গে জোরালো সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপঙ্কর বর (৩৪), প্রসেনজিৎ দিগর (৫৩), রাজু পণ্ডিত (৩২) ও দিলীপ সামন্তর (৫০)। আহত হন শীতল মাজি ও আশিস সানকি। দীপঙ্কর ও রাজুর বাড়ি খানাকুল থানার ময়াল গ্রামে। প্রসেনজিতের বাড়ি ময়াল বন্দিপুর গ্রামে ও দিলীপের বাড়ি বামনখানা গ্রামে। দীপঙ্কর কিশোরপুর অঞ্চল তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি। প্রসেনজিৎ অঞ্চল এসসি-এসটি সেলের সভাপতি ছিলেন। রাজু ও দিলীপ তৃণমূল কর্মী। শীতল স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং আশিস পঞ্চায়েতের সুপারভাইজার।





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৩,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’