ইন্টারনেটও মৌলিক অধিকার, কাশ্মীর নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

11th January 2020 ভারত
ইন্টারনেটও মৌলিক অধিকার, কাশ্মীর নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট


নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল পর্ব থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে লাগাতার ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি দফায় দফায় ১৪৪ ধারা জারি নিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল মোদি সরকার। এভাবে বার বার ১৪৪ ধারা জারি করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যায় না। লাগাতার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিষয়টিও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মৌলিক অধিকার হরণেরই সামিল। তাই যতবার ১৪৪ ধারার নির্দেশ জারি হয়েছে, তা যুক্তিযুক্ত ছিল কি না, প্রশাসনকে তা এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্যকে ভেঙে দু’টুকরো করার পর থেকেই উপত্যকায় ইন্টারনেট বন্ধ। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় নাগরিকদের জীবনযাপনও ব্যাহত। সেকথা মাথায় রেখেই মামলার রায় দিতে গিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এভাবে লাগাতার জায়গায় জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আজকের যুগে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা তথা অভিব্যক্তি প্রকাশের অন্যতম অঙ্গই হল ইন্টারনেট। এই কাজ সংবিধানের ১৯ (১) অনুচ্ছেদের উপর আঘাত।
একইসঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে যে ১৪৪ ধারা জারির ক্ষমতা রয়েছে, তারও যথার্থ ব্যবহার হয়নি বলেই ইঙ্গিত সর্বোচ্চ আদালতের। বিচারপতি এন ভি রামান্না, বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের বেঞ্চ মামলার রায় দিতে গিয়ে বলেছেন, মানুষের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, এলাকায় ব্যাপক অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে এমন পরিস্থিতিতেই জরুরি ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করা যায়। এভাবে বার বার ১৪৪ ধারা জারি করে মানুষের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ঠিক নয়। ফলে এতদিনে যতবার ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, তার উপযুক্ত পরিস্থিতি ছিল কি না, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে তা পর্যলোচনার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।
সংসদে বিল পাশ করিয়ে আইনবলে জম্মু ও কাশ্মীরে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল হওয়ার পর থেকেই থমকে রয়েছে উপত্যকা। গত ৫ আগস্ট থেকেই ইন্টারনেট কাজ করছে না। জারি হচ্ছে ১৪৪ ধারা। সরকারি আয়োজনে বিদেশি প্রতিনিধিরা শ্রীনগরে গেলেও ভারতীয় জনপ্রতিনিধিদের যাওয়া মানা। তাই ইন্টারনেট সহ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি উপত্যকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আবেদন জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন গুলাম নবি আজাদ, কাশ্মীরের প্রতিষ্ঠিত এক সংবাদপত্রের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন। সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। চার্লস ডিকেন্সের ‘আ টেল অব টু সিটিজ’-এর লাইন উদ্ধৃত করে ১৩০ পাতার রায় শুরু করে ছত্রে ছত্রে জম্মু-কাশ্মীরে নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। তাঁরা বলেছেন, কাশ্মীর অনেক সন্ত্রাসের সাক্ষী। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিতে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছি। রায় নিয়ে কংগ্রেস এমপি কপিল সিবাল বলেন, আজকের এই রায় গৃহবন্দি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের প্রসঙ্গে অথবা জনপ্রতিনিধিদের উপত্যকায় যাতায়াতের প্রসঙ্গে ছিল না ঠিকই, তবে রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৪৪ ধারার প্রসঙ্গটি নিয়ে পর্যালোচনা হলেই বাকিগুলিও স্পষ্ট হয়ে যাবে।





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।