মাথায় লাল রং লাগিয়ে ঐশী নাটক করছে, দাবি দিলীপ ঘোষের

8th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
 মাথায় লাল রং লাগিয়ে ঐশী নাটক করছে, দাবি দিলীপ ঘোষের


কলকাতা: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সম্পাদক ঐশী ঘোষের আঘাত সাজানো, সবটাই বামেদের ষড়যন্ত্রের ফল। মঙ্গলবার এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। গত রবিবার সন্ধ্যায় জেএনইউ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলায় আহত ঐশীর যে ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আসলে রক্ত রয়েছে, না কি রং, তা নিয়েও সংশয়ী দিলীপবাবু। তাঁর ব্যাখ্যা, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্দোলন থিতিয়ে পড়ায় নিজেদের প্রচারের লক্ষ্যে এই চক্রান্ত করেছে বামেরা। বামেরা তো বটেই, বিজেপি সভাপতির নিন্দায় সরব তৃণমূলও।
জেএনইউ কাণ্ড নিয়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন পড়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে কাপড়ে মুখ ঢেকে হস্টেলে ঢুকে তাণ্ডবকারীরা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও তার সহযোগী সংগঠনের কর্মী। এই অভিযোগেই দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই পড়ুয়ারা প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। সঙ্ঘ পরিবার তথা বিজেপিকেই নিশানা করে পথে নেমেছে তারা। বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই নিয়ে বিঁধছে কেন্দ্রের শাসকদলকে। ঘটনার দিনেই ভিডিও ফুটেজ সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে প্রচার হয়ে গিয়েছে। তাতেই বাম ও কংগ্রেসের পাশাপাশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত নিন্দায় সরব হয়েছেন। দেশের প্রায় সব ছাত্র সংগঠন ও অবিজেপি দল একযোগে জেএনইউ কাণ্ডে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের বিরুদ্ধে ওই প্রচারের মোকাবিলায় পাল্টা আক্রমণে নেমেছে হিন্দুত্ববাদীরা। একটি ভিডিও ক্লিপিংস দেখিয়ে তাদের দাবি, এসএফআই নেত্রী ঐশী নিজেই বহিরাগত তাণ্ডবের নেতৃত্ব দিয়েছে।
এদিন একদফা এগিয়ে দিলাপবাবু বললেন, ঐশীর যে রক্তমাখা ছবি দেখা গিয়েছে, তা রংও হতে পারে। কেননা, সিএএ নিয়ে আন্দোলন ক্রমে থিতিয়ে পড়েছে। তাই নজর কাড়তে বামপন্থীরা এই নাটক করেছে বলেই মনে করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, সবটাই সাজানো ঘটনা। উল্লেখ্য, এর আগেই দিলীপবাবু জেএনইউয়ের তাণ্ডবের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বামপন্থীদের মার দেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এদিন তিনি বলেন, তদন্ত হচ্ছে, তখনই সবটা জানা যাবে। উল্লেখ্য, ঘটনার পরে এদিন পর্যন্ত কোনও দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হয়নি। দিল্লির পুলিস প্রশাসন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। এখনও পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
এদিন দিলীপবাবুর মন্তব্য সম্পর্কে কড়া প্রতিক্রিয়া হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই প্রশ্নে অবশ্য সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের নেত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার পরেও নির্লজ্জের মতো আচরণ করছেন দিলীপবাবুরা। তাঁর উদ্দেশে পার্থবাবুর কটাক্ষ, আসলে আপনার দলে বোধহয় ওসব রং মাখামাখি চলে। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, রক্তের সঙ্গে রং গুলিয়ে ফেলছেন দিলীপবাবু। গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে ভয় পেয়েই এইসব বলছেন তিনি। নাট্যকার কৌশিক সেন এদিন ঐশীদের উপর হামলার প্রতিবাদে পড়ুয়াদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন। তিনি বলেন, উন্মাদ ও শয়তান, এই দুই ধরনের মানুষই এমন কথা বলতে পারেন। উনি একসঙ্গে দুটিই।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’