ইরান থেকে বহু সাহায্য পায় ভারত , ইরান মুসলিম দেশ

5th January 2020 ভারত
ইরান থেকে বহু সাহায্য পায় ভারত , ইরান মুসলিম দেশ


বাংলা খবরঃ২০১৮–১৯ সালে ভারতকে জ্বালানি আমদানি করেছে à§§à§§,১৯০ কোটি টাকার। আমেরিকা–ইরান বিরোধের জেরে সেই খরচ বাড়লে ভারতের নিজস্ব আর্থিক সঙ্কট আরও তীব্র হবে। যে আশঙ্কা থেকে শুক্রবার মুম্বইয়ের দালাল স্ট্রিটে শেয়ার সূচক ১০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যায় à§©à§® পয়সা। বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি সেনানায়ক কাশেম সোলেইমানির মৃত্যুর পর চরম প্রত্যাঘাতের শপথ নিয়েছে তেহরান। পাল্টা বন্দুক উঁচিয়েই আছে আমেরিকা। সত্যিই যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করা প্রায় ৮০ লক্ষ অনাবাসী ভারতীয়র জীবন ও জীবিকাই শুধু বিপন্ন হবে না, প্রতি মাসে যে বিরাট অঙ্কের টাকা তঁারা দেশে পাঠিয়ে থাকেন, তা বন্ধ হবে। পরিণতিতে ভারতের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ে ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আরও বেশি চাপ। দেশের গড় জাতীয় উৎপাদন কমতে কমতে যেখানে ৪.‌à§« শতাংশে হামাগুড়ি দিচ্ছে, সেখানে এই ধাক্কা সামলানো সহজ হবে না ভারতের পক্ষে। এবং মধ্যপ্রাচ্যে একবার সামরিক সঙ্ঘর্ষ শুরু হলে সেই পরিস্থিতি এড়ানো যাবে না। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ, মিশরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২০০৪ সালে আইসিস জঙ্গিদের ইরাকের দখল নেওয়া— প্রতিবার এক ঘটনা ঘটেছে। মার খেয়েছে অনাবাসী ভারতীয়দের উপার্জন, পরিণতিতে ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষতি। 
অবশ্য, কেবল ভারত নয়, মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত হয়ে উঠলে ভৌগোলিক নৈকট্য এবং কূটনৈতিক, রাজনৈতিক সংযোগের কারণে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সব দেশে সেই অশান্তির প্রভাব পড়বে। ভারতের ক্ষেত্রে ক্ষতিটা হবে বেশি, কারণ ভারত নিজেই তার ঘর সামলাতে এখন ব্যতিব্যস্ত। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ইরান–আমেরিকা বিরোধের প্রেক্ষিতে ভারত তার নিজের কূটনৈতিক অবস্থান কী রাখে, সেদিকেও ওঁরা সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন। এর আগে আমেরিকার বারণ শুনে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত। সেই ‘‌কথা শুনে চলা’–‌র পুরস্কার নিতে গত মাসেই আমেরিকা সফরে যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্ক আরও জোরদার করার তদ্বির করেন তঁারা। যদিও ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে আসার কিছুদিন পরেই এস জয়শঙ্কর তেহরান যান ভারত–ইরান যৌথ কমিশনের বৈঠকে ইরানি বিদেশমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে কথা বলতে। ইরান সীমান্তে চাবাহার বন্দর তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্তে সহমত হন তঁারা, যে চাবাহার বন্দর কৌশলগত অবস্থান হিসেবে ভারতের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাবাহার দিয়ে সরাসরি স্থলপথে আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ গড়তে পারবে ভারত, টেক্কা দেবে চীন এবং পাকিস্তানকে। বন্দরটি তৈরিতে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার সহযোগিতার লিখিত প্রতিশ্রুতিও আদায় করে এনেছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। সে সবই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।        
কাজেই আমেরিকা এবং ইরানের প্রতি ভারতের সংযম দেখানোর আবেদন এই পরিস্থিতিতে যতটাই ফিকে লাগুক, ওই দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখাটা ভারতের পক্ষে আবশ্যিক। সেই ভারসাম্য ভারত কতটা রাখতে পারে, সেই দিকে কার্যত গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে। বলছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা। তঁাদের মতে, জেনারেল সুলেইমানির হত্যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবথেকে প্রভাব ফেলা ঘটনা, যার অভিঘাত ভারতীয় উপমহাদেশের সব দেশকেই সামাল দিতে হবে। সেখানে ভারত কী করবে, সেটা তার কাছে প্রায় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সেটাও এমন এক সময়ে, যখন বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কারণে ভারতের এক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ এবং তার জেরে একাধিক মুসলিম দেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্কে টান ধরেছে। ফলে, বাড়তি চাপে থাকবে ভারত।‌





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।