বর্ধমান স্টেশন বিপর্যয়ে মৃত্যু এক ব্যক্তির

5th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
বর্ধমান স্টেশন বিপর্যয়ে মৃত্যু এক ব্যক্তির


বাংলা খবরঃ বর্ধমান স্টেশন বিপর্যয় কাণ্ডে মৃত্যু হল একজনের। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি ছিলেন তিনি। শনিবার গভীর রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি থাকা আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এই ঘটনার রেলের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলছেন প্রায় সকলেই। ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হল। আপাতত ঘটনাস্থল ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছে।

শনিবার রাত আটটা পাঁচ মিনিট নাগাদ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বর্ধমান স্টেশনের মূল প্রবেশ পথে থাকা ভবনের একাংশ। শনিবার রাতে দুই থেকে তিন দফায় দোতলার বারান্দা ও তিনতলা ছাদের একাংশও ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে বর্ধমান দমকল কেন্দ্রের কর্মী-আধিকারিকরা ছুটে যান। আসে পুলিশও। রেল ও আরপিএফও হাত লাগায় উদ্ধারকাজে। কংক্রিট ও লোহার কাঠামো সরাতে আনা হয় আধুনিক যন্ত্রও। বর্ধমান স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মূল প্রবেশপথেই রয়েছে রেলের অনুসন্ধান কেন্দ্র। সেখানেই এদিন বাইরের দিকে বারান্দার একাংশে ধস নামে। সেখানে থাকা অন্য যাত্রী বা নিকটজনকে স্টেশনে নিতে বা ছাড়তে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বারান্দার একাংশ ভেঙে পড়ে। তখন বহু মানুষ দূর থেকে ভিড় করেন। মিনিট দশেকের মধ্যে উপরের বাকি অংশও ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মূল প্রবেশপথের যে অংশটি ভেঙে পড়েছে সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে পিলারে কাজ চলছিল। তারই কোনও ত্রুটিতে এই দুর্ঘটনা হতে পারে। স্টেশন বিপর্যয় গুরুতর জখম হন দু’জন। তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। গভীর রাতে ওই হাসপাতালে ভরতি থাকা অবস্থাতেই এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এই দুর্ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বর্ধমান স্টেশন পরিদর্শনে যান মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এই ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে শুরু হয়েছে তদন্ত। রেলের তরফে দুর্ঘটনার পরই অবশ্য অনুসন্ধান কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় মূল প্রবেশপথ ও তার কিছুটা দূরে থাকা ঢোকার রাস্তাটিও।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’