নাগরিকত্ব আইন থেকে এক ইঞ্চিও সরব না: অমিত

4th January 2020 ভারত
নাগরিকত্ব আইন থেকে এক ইঞ্চিও সরব না: অমিত


বাংলা খবরঃ যত আন্দোলনই চলুক, বিরোধিতা-প্রতিবাদ হোক, সংশোধিত নাগরিকত্ব আ‌ইন কার্যকর করা থেকে এক ইঞ্চিও সরব না। এই কঠোর অবস্থানই জানিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী রবিবার থেকে বিজেপি নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে প্রচার অভিযান শুরু করবে দেশজুড়ে। আজ রাজস্থানে তারই সূত্রপাত করলেন অমিত শাহ। এই সমাবেশে তিনি একদিকে যেমন বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, ক্ষমতা থাকলে নাগরিকত্ব আইন যথাযথ পড়ার পর আমাদের সঙ্গে বিতর্কে আসুন। তেমনই সবথেকে বেশি আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাঙালি নমঃশূদ্র বিরোধী আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, মমতাদিদি আপনার কী ক্ষতি করেছেন বাঙালি নমঃশূদ্ররা? বাংলাভাষী দলিত, হিন্দুরা কী ক্ষতি করেছেন? তাঁদের মতো শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে আপত্তি কেন? বাঙালি নমঃশূদ্র ভাইবোনদের বলছি, মমতাদিদিকে ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের নাগরিকত্ব দেব। মমতাদিদি আপনাদের ভালো চান না। শুধুই ভোটব্যাঙ্ক চান।
কয়েক সপ্তাহ আগেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজেপি-বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে আক্রমণের সময় নিশানা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেছিলেন, মমতাদিদি ভয় পেয়েছেন। আর আজ মোদির সেনাপতি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তীব্র আক্রমণ করলেন সেই তৃণমূল নেত্রীকেই। কারণ সহজবোধ্য। গোটা দেশে মমতাই প্রথম থেকে একটানা এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে চলেছেন। তিনিই সর্বাগ্রে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, এনআরসি তো বটেই, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনও কার্যকর করতে দেব না। এরপরই একের পর এক বিজেপি বিরোধী দল ও রাজ্য সরকার ওই হুমকিই দিয়েছে। সুতরাং মমতাই যে দেশজুড়ে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছেন ও তিনিই বিরোধী জোটের মূল কারিগর, তা বুঝেই দুই শীর্ষ বিজেপি নেতা মমতাকে আক্রমণ করছেন।
আজ অমিত শাহ রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, রাহুলবাবা কি আদৌ নাগরিকত্ব আইন পড়েছেন? যদি না পড়েন, আমরা বরং ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে দিচ্ছি। পড়ে দেখুন। তারপর যেখানে চাইবেন সেখানে আসুন বিতর্কে। বিজেপি এর আগে মিসড কলের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেছিল। পরে ঘোষণা করে সদস্য সংখ্যার বিচারে তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পার্টি। নাগরিকত্ব আইন নিয়েও মিসড কল ফর্মুলা চালু হল। আজ অমিত শাহ একটি নম্বর ঘোষণা করে বলেছেন, মিসড কল দিলেই নরেন্দ্র মোদির কাছে নথিভুক্ত হয়ে যাবে আপনারা নাগরিকত্ব আইন সমর্থন করেন। তবে তাঁর ভাষণে আজ ছিল না এনআরসি প্রসঙ্গ।





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।