নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে দু’সপ্তাহ সন্তানহারা বারাণসীর দম্পতি

3rd January 2020 ভারত
নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে দু’সপ্তাহ সন্তানহারা বারাণসীর দম্পতি


বাংলা খবরঃ গত দু’সপ্তাহ ভালো করে ঘুমাতে পারেনি ছোট্ট চম্পক। ঘুমের মধ্যে মাকে খুঁজত। কেঁদে উঠত বারবার। তখনই তাকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ত। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম ভেঙেই মুখে হাসি ফুটল চম্পকের। সামনেই দাঁড়িয়ে মা। কোলে উঠে আঁকড়ে ধরল সে। আর মা একতা শেখর ১৪ মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। টিভির ক্যামেরা চারিদিক থেকে ঘিরে ধরলেও একটি কথাও বলতে পারলেন না। বাবা রবি শেখরের চোখেও তখন জল।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর বেনিয়াবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করে যোগী আদিত্যনাথের পুলিস। তখনই সারা দেশে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন একতা (৩২) এবং রবি শেখর (৩৬)। বাড়িতে ১৪ মাসের মেয়েকে রেখে এসে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ ওঠেন তাঁরা। অন্যতম দূষিত শহর বারাণসীকে দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান স্বামী-স্ত্রী। ১৯ তারিখ বামপন্থী সংগঠনের ডাকা প্রতিবাদ সভায় হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। সভা শুরু হতেই আগেই পুলিস তাঁদের আটক করে। নিম্ন আদালতে প্রথমবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তী শুনানি ১ জানুয়ারি হবে বলে জানানো হয়। বুধবার জামিন মঞ্জুর হলেও কাগজপত্র প্রস্তুত করতে বেলা গড়িয়ে যায়। ফলে ফের জেলেই ফিরতে হয় একতা এবং রবিকে। বৃহস্পতিবার সকালে সরকারিভাবে জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরেন। তাঁদের আইনজীবী হিমাচল সিং জানান, ‘২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে একতা এবং রবি শেখরের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য বুধবার তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারেননি।’ আর জামিন পাওয়ার পর একতা শেখরের বক্তব্য, ‘এত দেরি হবে, বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম, বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে। আমাদের পরদিনই ছেড়ে দেবে। কিন্তু আমরা এমন কিছু অপরাধ করিনি, যে, পুলিস এমন ধারায় মামলা করবে! ১৪ দিন সন্তানের থেকে দূরে থাকা কতটা যন্ত্রণার, তা বলে বোঝাতে পারব না।’
এই ১৪ দিন বাড়িতে ঠাকুমা, পিসিদের কাছে থাকলেও বারবার বাবা-মাকেই খুঁজত ছোট্ট মেয়েটি। ঠাকুমা শিলা তিওয়ারি জানান, ‘ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছিল মেয়েটির। খেতে চাইত না। ওকে ভোলাতে প্রতিদিন বেড়াতে নিয়ে গিয়েছি। অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলত। কিন্তু তাও চোখে-মুখে অস্থিরতা ছিল। অনেক কষ্ট করে ঘুম পাড়ালেও কেঁদে উঠত। ঘুমের মধ্যেই মাকে খুঁজত। তখন সামলানো মুশকিল হতো।’





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।