আন্দোলনমঞ্চে উপস্থিত পার্শ্বশিক্ষকদের ব্যাপক হারে বেতন কাটা হয়েছে

3rd January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
 আন্দোলনমঞ্চে উপস্থিত পার্শ্বশিক্ষকদের ব্যাপক হারে বেতন কাটা হয়েছে


কলকাতা: ঘোষণামতোই আন্দোলনকারী পার্শ্বশিক্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বিধাননগরে আন্দোলনমঞ্চে উপস্থিত পার্শ্বশিক্ষকদের ব্যাপক হারে বেতন কাটা হয়েছে। কেউ কেউ সারা মাসেরই বেতন পাননি। বাদ যাননি নেতানেত্রীরাও। যে পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন হয়েছিল, তার অন্যতম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র ৩৭৬ টাকা বেতন পেয়েছেন। আন্দুলের শিক্ষিকা বৈশাখী চট্টোপাধ্যায় আবার এ মাসে কোনও বেতনই পাননি। মঞ্চের আরেক আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ ২১ দিনের বেতন পেয়েছেন। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে পার্শ্বশিক্ষকদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, ৩২ দিন আন্দোলন চলেছিল। তার মধ্যে অনশন আন্দোলন চলে ২৮ দিন। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
বেতনবৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন চলাকালীন স্কুলশিক্ষা দপ্তর পার্শ্বশিক্ষকদের বার বার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে কাটা যেতে পারে বেতন। এমনকী, ডিআই এবং এসআইরা সশরীরে স্কুলে উপস্থিত থেকে খোঁজ নিয়েছেন অনুপস্থিতির। পার্শ্বশিক্ষকদের ফোন করেও জিজ্ঞাসা করেছেন স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণ। সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও পঠনপাঠনে ক্ষতি, অভিভাবকদের ক্ষোভের কথা বলে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলন দুর্বল হয়ে যাবে, এই ভেবে পার্শ্বশিক্ষকরা মঞ্চ ছাড়েননি। সমগ্র শিক্ষা মিশনের রাজ্য প্রকল্প অধিকর্তা শুভাঞ্জন দাস জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, অনুপস্থিত পার্শ্বশিক্ষকদের যেন শোকজ করা হয়। তা হয়েওছিল। শোকজের উত্তর দিলেও আন্দোলনে ফেরেননি শিক্ষকরা। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আন্দোলনের নাম করে অন্যত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে শিক্ষকদের একাংশ। নিয়োগকর্তা হিসেবে সেই কারণ জানার অধিকার তো রয়েছেই। এটাকে শোকজ বলা যায় না।
বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন হাইস্কুল (পূর্ব বর্ধমান)-এর পার্শ্বশিক্ষিকা এবং বামপন্থী একটি সংগঠনের নেত্রী মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি মাত্র ৩৭৬ টাকা বেতন পেয়েছেন। সরকার যে এতটা কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে, তা তাঁরা আন্দাজ করেননি। রানবন্দ সেন্ট মেরিজ হাইস্কুলের শিক্ষক ভগীরথ ঘোষ বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল, ক্যাজুয়াল লিভ, মেডিক্যাল লিভের সঙ্গে এই ছুটিগুলি অ্যাডজাস্ট করে দেওয়া হবে। আমাদের অনেকেরই ছুটি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ২১ দিনের বেতন পেয়েছি। এই বেতনের আর্থিক ক্ষতি হয়তো আমি সামলে দিতে পারব। কিন্তু এর জন্য আমার পিএফ কম জমা পড়বে। সেই সুদ-আসল থেকে বঞ্চিত হব। পেনশনের টাকাও কমে যাবে। ফলে ক্ষতিটা সুদূরপ্রসারী। আমরা সমগ্রশিক্ষা অভিযানের রাজ্য প্রকল্প অধিকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে যাব।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’