নতুন বছরেই রাজ্যে কার্যকর বেতন কমিশন

1st January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
নতুন বছরেই রাজ্যে কার্যকর বেতন কমিশন


নিউজ ডেস্কঃ নতুন বছর রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে সুখবর নিয়ে এল। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ রাজ্য সরকার কার্যকর করায় বছরের প্রথম মাস থেকেই সরকারি কর্মীদের বেতন একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। সরকারি কর্মীদের হাতে বর্ধিত হারে নতুন বেতন পৌঁছবে জানুয়ারির শেষে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনের হিসেব অনুযায়ী, বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার ফলে সর্বনিম্ন স্তরে অর্থাৎ গ্রুপ-ডি কর্মীদের বেতনও মাসে অন্তত তিন হাজার টাকার কিছু বেশি বাড়বে। গ্রুপ-সি কর্মীদের ক্ষেত্রে মাসে বৃদ্ধি পাবে চার হাজার টাকার বেশি। অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের পেনশন ও ফ‌্যা঩মিলি পেনশনও এর ফলে বাড়বে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হবে। সরকারের পুরো আর্থিক সহায়তা পায়, এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থার স্থায়ী কর্মীরাও বেতন কমিশনের সুফল পান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পঞ্চায়েত কর্মীদের নতুন বেতন হার সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যে জারি হয়ে গিয়েছে।
বর্ধিত হারে বেতন দিতে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। চলতি ২০১৯-’২০ আর্থিক বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন খাতে বর্ধিত খরচ বহন করতে হবে চলতি বাজেট বরাদ্দ থেকে। কারণ প্রথা অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের মার্চ মাসের বেতন পরের আর্থিক বছরের এপ্রিল মাসের বরাদ্দ থেকে দেওয়া হয়। মাস খানেকের মধ্যে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র রাজ্য বিধানসভায় যে বাজেট পেশ করবেন, তাতে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশন খাতে তাঁকে বাড়তি বরাদ্দের সংস্থান রাখতে হবে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন হার নির্ধারণের জন্য ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠন করা হয়। বেশ কয়েক দফায় সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেতন কমিশনের প্রথম পর্যায়ের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সরকারি কর্মী সংগঠনের এক সভায় ঘোষণা করেন, বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হবে। এই ঘোষণার ১২ দিনের মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর অর্থ দপ্তর নতুন হারে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘রোপা’ ২০১৯-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে মূল বেতন ছিল তার থেকে ২.৫৭ গুণ বেতন বাড়বে। যেহেতু ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বেতন কমিশনের সুপারিশ চালু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, তাই পরবর্তী সময়ে বছরে তিন শতাংশ হারে যে বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, সেটিও এখনকার মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে বাস্তবে এখনকার মূল বেতনের থেকে ২.৫৭ গুণের কিছুটা বেশি বাড়বে।
তবে জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে কোনও মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) যুক্ত হবে না। অধিকাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে ১২ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা ও পাঁচশো টাকা চিকিৎসা ভাতা যুক্ত হবে।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’