টাকা ছিনতাই এর কিনারা করলো পুলিশ

22nd December 2019 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
টাকা ছিনতাই এর কিনারা করলো পুলিশ


বাংলা নিউজঃ গত ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে খড়্গপুর গ্রামীণের রূপনারায়ণপুরের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে ১০ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। কলকাতার পরিবহণ সংস্থার মালিক অভিষেক জিন্দল গ্রামীণ থানায় অভিযোগে জানান, সংস্থার খড়্গপুরের সাদাতপুরে একটি অফিস রয়েছে। সেই অফিসে শ্রমিক, খালাসিদের বেতনের জন্য বেলদায় তাঁর পরিচিতের থেকে বাইকে টাকা নিয়ে আসছিল সংস্থার ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম। বাইক চালাচ্ছিলেন আরেক কর্মী শেখ সিরাজ। রূপনারায়ণপুরের কাছে এসে আমিনুল দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা ১০ লক্ষ টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে পালাচ্ছে অন্য এক বাইক আরোহী। হাতে থেকে যায় ব্যাগের স্ট্র্যাপ। ম্যানেজারের নামে লিখিত অভিযোগ না করলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন মালিক অভিষেক। 

পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামীণ থানার ওসি আসিফ সানির নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। সন্দেহ হয় তদন্তকারীদেরও। কারণ চলন্ত বাইক থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্ট্র্যাপ ছিড়ে থাকলে বাইক দুর্ঘটনা হওয়ার কথা। গত দু’দিন ধরে জেরা করা হয় সিরাজ ও আমিনুলকে। সিরাজ জানান, ছিনতাই হতে তিনি দেখেনি। মাঝপথে আমিনুল  কয়েকবার বাইক দাঁড় করাতে বলেন। তখনই  ছিনতাইয়ের কথা জানান। আমিনুলের কথায় অসঙ্গতি পায় পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেরার মুখে ভেঙে পড়েন আমিনূল। জানা যায়, দিন কয়েক আগে বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তখনই বন্ধু শেখ আব্বাস তাঁকে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা বলেন। সেই মতো ঘটনার দিন অন্য বাইকে থাকা আব্বাসকে টাকার ব্যাগ দিয়ে দেন আমিনুল। এ কথা জানার পরে আর দেরি করেনি পুলিশ। শুক্রবার রাতেই বীরভূমে পৌঁছয়  পুলিশ। শেখ আব্বাসের বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার হয় ছিনতাইয়ের টাকা। 

 





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৩,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’