NRC এর ভয়ে নতুন করে বিয়ের রেজিস্ট্রি, পদবি জন্মতারিখ সংশোধনের হিড়িক আদালতে

18th December 2019 পশ্চিমবঙ্গ
NRC এর ভয়ে নতুন করে বিয়ের রেজিস্ট্রি, পদবি জন্মতারিখ সংশোধনের হিড়িক আদালতে


সুকান্ত বসু, কলকাতা: à¦¨à¦¾à¦—রিকত্ব আইন এবং এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যের বিভিন্ন কোর্টে পদবি, জন্ম তারিখ ও ঠিকানা সহ নানা ধরনের নথিপত্র সংশোধনের জন্য নোটারি ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এফিডেভিটের কাজকর্ম প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে। পাছে কোনও বিপদ হয়, তার জন্যই এই তৎপরতা বলে অভিমত আইনজীবীদের একাংশের। শুধু তাই নয়, বহু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গিয়েছে, অনেকেরই বহু বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু কোনও কারণে বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়নি। এখন সম্পূর্ণ আইন‑কানুন মেনে সেই বিয়ের নিবন্ধীকরণ করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কোর্টের তথ্যে থাকা নানা ভুলভ্রান্তি ঠিক করার জন্য অনেকে দু’ধরনের এফিডেভিটই করিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ করাচ্ছেন পাবলিক নোটারি, আবার কেউ করাচ্ছেন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এফিডেভিট।
নোটারিয়ান তপন দাস বলেন, বিশেষ করে জন্ম সংক্রান্ত নথিপত্রে কোনও ভুলভ্রান্তি থাকলে, তাঁরা এখন সংশোধন করিয়ে নিচ্ছেন। আবার কারও পদবি ও নামে হয়ত ভুলভ্রান্তি থেকে গিয়েছে। তাঁরাও এখন এফিডেভিট করাতে আদালতে হাজির। আর এক নোটারিয়ান প্রদীপকুমার দত্ত বলেন, নাগরিকত্ব এবং এনআরএসি আতঙ্ক কি না, বলতে পারব না। কিন্তু এখন এই ঘটনার পর বহু মানুষ আসছেন আদালতে। আমাদের এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করছেন। অনেকেই বিভিন্ন কাগজপত্র এনে দেখাচ্ছেন। প্রশ্ন করছেন, এই সব নথি থাকলেও কি কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে? এ যেন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাঙ্কশাল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বাপন চক্রবর্তী মঙ্গলবার বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি সংশোধনের বিষয়ে পাবলিক নোটারি এফিডেভিটের বদলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে এফিডেভিট করানো হচ্ছে বেশি। জেলার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আর কলকাতার ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে ঠিক করে দেওয়া বিচারকের এজলাসে মূলত এই সব এফিডেভিটের কাজ হয়ে থাকে। আমাদের কাছে খবর আসছে, প্রতিটি জেলার মহকুমা কোর্টেই এই কাজ আগের থেকে অনেকটা বেড়েছে। তিনি বলেন, আমরা এনআরসি বুঝি না। মক্কেলের চাহিদা মতো নথি টাইপ থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করতে হচ্ছে। সেই নথি এফিডেভিটের জন্য কোর্টে জমা দেওয়া হচ্ছে। দু’টো পয়সার মুখ দেখতে পাচ্ছি।
এদিকে, এই সব এফিডেভিট করতে গেলে দরকার দশ টাকার স্ট্যাম্প পেপার। তাই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরের বিভিন্ন ভেন্ডারে এর চাহিদা তুঙ্গে। বহু মানুষ দশ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনতে লাইনও দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, খরিদ্দার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি টাইপিস্ট থেকে শুরু করে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকজন। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিল। এখন বাজার কিছুটা জমেছে। সংসারটা একটু ভালোভাবে চলুক, এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’