আন্দোলনের নামে হিংসা বরদাস্ত নয়ঃ মুখ্যমন্ত্রী

15th December 2019 পশ্চিমবঙ্গ
আন্দোলনের নামে হিংসা বরদাস্ত নয়ঃ মুখ্যমন্ত্রী


বাংলা নিউজঃ নাগরিকত্ব আইন ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে যেভাবে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাস-ট্রেনে আগুন লাগিয়ে, পাথর ছুঁড়ে যে বা যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিস-প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে রাজ্যের যে সমস্ত অংশে হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই গোলমাল পূর্বপরিকল্পিত। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে হিংসাশ্রয়ী করা হচ্ছে। আন্দোলনের নামে কয়েকটি জায়গায় লুটপাট করা হচ্ছে। ধ্বংস করা হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। এই ঘটনার পিছনে কয়েকটি সংগঠন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইন্ধন ও উস্কানি দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে।

মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা এবং রেল লাইন অবরোধ  করে একাধিক ট্রেনে একের পর এক আগুন ধরানো হয়, বিভিন্ন স্টেশনে চলে ভাঙচুর। আগুন ধরানো হয় টোল প্লাজ়ায় এবং অনেক বাসেও। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে ট্রেনে পাথর ছোড়া হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসনাবাদ, লালগোলা-কৃষ্ণনগর শাখায় ট্রেন চলেনি। সব মিলিয়ে ভোগান্তি হয় সেই সাধারণ মানুষের।

এ দিন সকাল ১০টা থেকে গোলমাল শুরু হয় হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে। গরফা সেতুর উপরে ৮টি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। খেজুরতলার কাছে আরও দু’টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। দমকল ও পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। ছোড়া হয় বোমাও। পাথরের আঘাতে ডিসি (সাউথ) স্বাতী ভাঙালিয়া-সহ আট জন আহত হন। পরে র‌্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স এসে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। চার ঘণ্টা ধরে ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় যানজটে আটকে পড়েন বহু মানুষ। বেলা আড়াইটে নাগাদ যান চলাচল শুরু হয় ওই রাস্তায়। হাওড়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘পরিস্থিতি সামাল দিতে  লাঠি বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না।’’ হাওড়ার বিভিন্ন স্টেশনেও ভাঙচুর ও অবরোধ হয়। পাঁচলা-বেলতলা অঙ্কুরহাটি, উলুবেড়িয়ার পারিজাত, ধুলাসিমলা, রণমহলে ও সাঁকরাইলে দফায় দফায় সড়ক অবরোধ হয়। সাঁকরাইলের ডাকঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা। বিকেলে হুগলির দাদপুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধে তীব্র যানজটে ভুগতে হয় নাগরিকদের।





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’