নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় একজোট হওয়ার আহ্বান মমতার

9th December 2019 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের  বিরোধিতায় একজোট হওয়ার আহ্বান মমতার


বাংলা নিউজঃ ম্প্রতি বিধানসভা উপনির্বাচনে ৩টি আসনের সব ক’টিতে তৃণমূল জেতার পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, কৃতজ্ঞতা জানাতে খড়্গপুর, করিমপুর এবং কালিয়াগঞ্জ যাবেন তিনি। কথা মতো ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী খড়্গপুরে গেলেন। বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চড়া সুরেই যে তিনি কথা বলবেন খড়্গপুরে, রাজনৈতিক শিবিরে তা প্রত্যাশিতই ছিল। দেশের ‘বেহাল অর্থনীতি’ বা ‘কর্মসংস্থানের অভাব’ প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে তিনি আক্রমণ তো করলেনই, কিন্তু সবচেয়ে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন সিএবি এবং এনআরসি প্রসঙ্গেই।

 আজ দুপুরেই লোকসভায় পেশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB)। বিলটি পেশের পক্ষে ২৯৩ টি ভোট এবং বিপক্ষে মাত্র ৮২ টি ভোট পড়েছে। ফলে সংখ্যার নিরিখে সহজেই পেশ হয়ে গিয়েছে বিল। সংসদে যখন এই বিল পেশ হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই খড়গপুরের সরকারি সভা থেকে এরই প্রতিবাদে ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘সিএবি এবং এনআরসি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’ জনগণকে আবারও অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আশ্বস্ত করলেন, কাউকে দেশছাড়া হতে হবে না।

মমতা বলেন, ‘‘আমরা সবাই নাগরিক, সবাই ভোট দিই। সবারই রেশন কার্ড আছে। কারও একটা স্কুল সার্টিফিকেট আছে, কারও একটা কাজ করার সার্টিফিকেট আছে, কারও জমির পাট্টা আছে। কিছু না কিছু তো আছে। তা হলে আবার নাগরিকত্ব নিয়ে কিসের প্রশ্ন?’’

কেউ ৭০ বছর ধরে এ দেশের নাগরিক, কেউ স্বাধীনতার পর থেকেই নাগরিক, এখন আবার তাঁদেরকে নতুন করে কোন নাগরিকত্ব দেবে সরকার? এই প্রশ্ন এ দিন আরও জোর দিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষণে স্বভাবসিদ্ধ ঝাঁঝ নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আপনি কে, যে ঠিক করবেন, এ পাবে আর ও পাবে না?’’





Others News

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে


বাংলা খবরঃ শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকেই প্রায় ৪ হাজার অভিযোগ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের ‘গ্রিভান্স অ্যান্ড রিড্রেসাল সেল’-এ। মানুষের মন বুঝতে কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে ওই সেল খোলা হয়েছে। টোল ফ্রি ফোন নম্বরের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ই-মেল আইডি ও হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর। তবে অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের একাংশের ঢিলেমি রয়েছে বলে নালিশ অভিযোগকারীদের একাংশের।

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ওই সেলে কোনও অভিযোগ পৌঁছনোর পরে জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ (এটিআর) তলব করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সেটা জানাতে বলা হয়। ওই সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নবান্ন হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৮১৬টি অভিযোগ এসেছে। তার মধ্যে ২,৩১৯টির ক্ষেত্রে জেলা থেকে ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি এখনও পড়েই রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ৩,৮১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৩,৭৬৬টি অভিযোগই এসেছে নভেম্বরের মধ্যে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাস্তা সংক্রান্ত। এছাড়া সেতু, সরকারি প্রকল্পের ঘর, পেনশন, ভাতা, স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, জাতিগত শংসাপত্র, পুলিশি নিস্ক্রিয়তা প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগও এসেছে।

মাস তিনেক আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে সরকারি কাজে দেরি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যে তাঁর কাছে অভিযোগ বেশি যাচ্ছে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঢিলেমি কেন? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের আশ্বাস, ‘‘কোথায় কত অভিযোগ পড়ে রয়েছে, কেন পড়ে রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই পুরো পদ্ধতিকে অনলাইন করা হয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। রাস্তাঘাট, সরকারি প্রকল্পের ঘর নিয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির একে একে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। সমস্যাগুলিরও সুরাহা করা হচ্ছে।’’