৫ সহকর্মী জওয়ানকে খুন করলেন বাংলার ছেলে মাসুদুল

5th December 2019 ভারত
 ৫ সহকর্মী জওয়ানকে খুন করলেন বাংলার ছেলে মাসুদুল


বাংলা নিউজঃ  à¦°à¦¾à§Ÿà¦ªà§à¦° থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে কাদেনার গ্রামে রয়েছে আইটিবিপির ৪৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই ক্যাম্পেই à¦†à¦šà¦®à¦•াই কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিসের (আইটিবিপি) কয়েকজন জওয়ান। সামান্য বাগবিতণ্ডা গড়ায় হাতাহাতিতে। এরপরেই চার সহকর্মীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেন এক আইটিবিপি জওয়ান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায়। এই ঘটনায় জখম হন আরও তিন জওয়ান। পরে তাঁদের মধ্যে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের হত্যা করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আত্মঘাতী হন মাসুদুল রহমান নামে ওই জওয়ান।

 à¦•োনও অজ্ঞাত কারণে সহকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় মাসুদুল রহমানের। তিনি নদীয়ার নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা। কথা কাটাকাটির মধ্যেই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন মাসুদুল। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চার জওয়ান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেড কনস্টেবল মহেন্দ্র সিং ও দলজিৎ সিং এবং কনস্টেবল সুরজিৎ সরকার ও বিশ্বরূপ মাহাত। এর মধ্যে মহেন্দ্র সিং হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর ও মহেন্দ্র সিং লুধিয়ানার বাসিন্দা। হত দুই কনস্টেবল সুরজিৎ সরকারের বাড়ি বর্ধমান জেলার নাদনঘাটে ও বিশ্বরূপ মাহাত পুরুলিয়ার আড়ষার বাসিন্দা।
জানা গিয়েছে, মাসুদুল রহমানের গুলিতে জখম হয়েছিলেন আরও তিন আইটিবিপি জওয়ান। এর মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় মৃত্যু হয় কনস্টেবল বিজেশের। তিনি কেরলের কোঝিকোড়ের বাসিন্দা। বাকি দুই জওয়ান— কনস্টেবল এস বি উল্লাস ও সীতারাম দুনকে জখম অবস্থায় আইটিবিপির ক্যাম্প থেকে এয়ারলিফ্ট করে রায়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানকার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন à¥¤ 

 à¦¸à§‚ত্রের খবর, বেশ কিছুদিন আগেই ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন মাসুদুল। কিন্তু ছুটি পাননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষোভও জানিয়েছিলেন ওই জওয়ান। একইসঙ্গে জানিয়েছিলেন, ব্যাটালিয়নের কয়েকজন তাঁকে ক্রমাগত উত্যক্ত করে চলেছে। 

টানা এক বছর পরে, আগামী মাসে বাড়ি আসার কথা ছিল মাসাদুলের। তখন তাঁর বিয়েরও কথা ছিল। মাসাদুলের মা বলেন, ‘‘দশ দিন আগে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। সব সময়েই বলত, ‘ছুটি কম। অনেকে এক-দু’বছর ছুটি পায়নি। বাড়িও যেতে পারেনি। চিন্তা কোরো না। ঠিক চলে আসব’।’’ মাসাদুলের বাবা বলেন, ‘‘ছেলে এ রকম কাজ করতে পারে না। এই ঘটনার তদন্ত হোক।’’ বন্ধুরাও বলছেন, মাসাদুল ঠান্ডা মাথার ছেলে। কোনও দিন কারও সঙ্গে ঝুটঝামেলা হয়নি তাঁর। বাল্যবন্ধু রামিজ শেখের কথায়, ‘‘ও এমন করতে পারে বলে বিশ্বাস হয় না।’’ তা হলে কেন ঘটল এমন? উত্তর খুঁজে চলেছেন সবাই।

 

 





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।