তেলঙ্গানায় ধর্ষণকাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া গেল পুলিশের জেরায়

2nd December 2019 ভারত
তেলঙ্গানায় ধর্ষণকাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া গেল পুলিশের জেরায়


Tarif tv বাংলা নিউজঃ  গত বুধবার রাতে, তেলেঙ্গানার সাধনগরের সামশাবাদের কাছে ধর্ষণ করে খুন করা হয় এক পশু চিকিৎসককে। বছর ছাব্বিশের ওই তরুণী চিকিৎসক হায়দরবাদের কাছে সামশাবাদের টোলপ্লাজায় নিজের স্কুটিটি রাখেন। সেখান থেকে কাছেই একজন ত্বকের চিকিৎসকের কাছে যান। রাত নটার সময় টোলপ্লাজার কাছে পৌঁছান তিনি। দেখেন, তাঁর স্কুটির একটি চাকা ফুটো হয়ে গিয়েছে। ঠিক ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ছিল ওই তরুণীর বোনের। তিনি শেষবার ফোনে ভয় লাগছে বলে জানান বোনকে। তারপর থেকে ফোন সুইচড অফ হয়ে যায় ওই চিকিৎসকের। পরেরদিন সাধনগর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি ব্রিজের নিচে তরুণীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।

দেহ উদ্ধারের পরদিনই এক লরিচালক সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।এরা হল জুল্লু নবীন , মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা এবং চিন্তাকুনটা চেন্নাকেশাভুলু।

গণধর্ষণের ঘটনাক্রম

২৭ নভেম্বর, বিকেল ৫.৩০: মূল অভিযুক্ত জুল্লু নবীন এবং লরি চালক আরিফ কয়েক বোতল মদ কেনে। সামসাবাদ টোল প্লাজার কাছে লরির কেবিনের মধ্যে বসে মদ্যপান করছিল চার জন।

সন্ধে ৬.০০: চার দুষ্কৃতী দেখে, তাদের লরির পাশেই একটি স্কুটি দাঁড় করিয়ে রাখছেন এক তরুণী। তার পর তিনি একটি ক্লিনিকে ঢুকে যান। তখনই চার জন ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। স্কুটির পিছনের চাকা পাংচার করে দেয় নবীন।

রাত ৯.০০: এর পর চার দুষ্কৃতী তাদের লরিটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে থোন্ডাপল্লির কাছে নিয়ে যায়। গাড়ি চালাচ্ছিল আরিফ।

রাত ৯.১৮: নির্যাতিতা তরুণী স্কুটির কাছে এলেন। কিন্তু দেখলেন স্কুটি পাংচার।

রাত ৯.৩০ থেকে ভোর ৪: এক অভিযুক্ত শিবা তরুণীকে সাহায্যের নাম করে স্কুটিটি এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে এসে তাঁকে বলে, সমস্ত মেরামিতর দোকান বন্ধ। এর পরেই স্বমূর্তি ধরে চার জন। তরুণীকে জাপটে ধরে টেনে হিঁচড়ে লরির পিছনে একটি পরিত্যক্ত এলাকায় নিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত নবীন তরুণীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়।

তার পরেই তরুণী চিকিৎসক চিৎকার করতে শুরু করলে নবীন তাঁর মুখে মদ ঢেলে দেয়। তার পর চলে নৃশংস অত্যাচার ও ধর্ষণ। তার জেরে তরুণী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ফের চিৎকার করতে শুরু করেন। তখনই দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে।

আরিফ তাঁর মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণী। নবীন তাঁর ফোন, ঘড়ি ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিয়ে নেয়।

এর পর শুরু হয় দেহ লোপাটের কাজ। চার জন মিলে দেহটি তাদের ট্রাকে তোলে। শিবা ও নবীন তরুণীর স্কুটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। রাস্তায় শিবা একটি বোতলে পেট্রোল কিনে নেয়। এর পর লরি চালিয়ে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর চাতানপল্লির কাছে কালভার্টের নীচে নিয়ে যায়। মৃতদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

২৬ নভেম্বর, ভোর ৪: ভোর ৪টে নাগাদ চার জন আরামগড়ে পৌঁছয়। সেখান থেকে শিবা, নবীন ও চেন্নাকেশাভুলু নিজের নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

 

 

 

 





Others News

দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে

 দেবেন্দ্রের মামলা এনআইএ-র হাতে


নিউজ ডেস্কঃ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গ্রেফতার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের মামলা হাতে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দেবেন্দ্র যে হিজবুল জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নামিয়ে আনছিলেন তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে হওয়া দু’টি অভিযানের প্রতিশোধ নিতে দিল্লি, পঞ্জাব অথবা চণ্ডীগড়ে বড় মাপের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর, ধৃত ডিএসপি-কে কাশ্মীরে জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফের এক দফা জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিকে গত বছর লোকসভা ভোটের ঠিক আগে পুলওয়ামায় আধাসেনার কনভয়ে বিস্ফোরণের সময়ে সেখানে দেবেন্দ্রের উপস্থিতি নিয়ে আজ তরজায় জড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি। 

শনিবার কুলগামের কাছে ধরা পড়েছিলেন দেবেন্দ্রে নামে ওই অফিসার ও জঙ্গিরা। অভিযোগ, ধৃত জঙ্গিদের নিরাপদে জম্মুতে নিয়ে আসার জন্য জঙ্গি পিছু ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ওই অফিসার। গত ক’দিন ধরে উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে সড়কে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্রের খবর, সে কারণে আপাতত কাজিগুণ্ডের কাছে রাখা হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার ও জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরে নজরদারি বাড়ায় সমতলে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনায় দেবেন্দ্রের মোবাইল ফোনও ব্যবহার করে তারা। অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও অস্ত্র-গোলাবারুদের জোগান সম্পর্কিত আলোচনা হয় ওই ফোনের মাধ্যমে। জঙ্গিদের সঙ্গে দেবেন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল, বাহিনীর আর কোনও অফিসার অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে কাজ করেন কি না তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্রের নামে থাকা পুরনো অভিযোগের ফাইল খোলা হচ্ছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলায় অন্যতম দোষী আফজল গুরু ওই কাণ্ডে দেবেন্দ্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিল। আফজলের অভিযোগ ছিল, দেবেন্দ্রের চাপে পড়েই তাকে সংসদ হামলাকারী এক জঙ্গির দিল্লিতে থাকা ও গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হয়েছিল। আফজলের সেই পুরনো অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিআইজি ইশরার খানের কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির নামে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পুলিশ অফিসার টাকার লোভে এই ধরনের কাজ করে বাহিনীর বদনাম করে।’’ আজই কেন্দ্র জানিয়েছে, দেবেন্দ্র সিংহ কোনও রাষ্ট্রপতি পদক পাননি। তবে ২০১৭ সালে পুলওয়ামাতে জঙ্গি দমনে সাহসিকতার জন্য রাজ্যস্তরে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।