Tarif tv বাংলা নিউজঃ গত বুধবার রাতে, তেলেঙ্গানার সাধনগরের সামশাবাদের কাছে ধর্ষণ করে খুন করা হয় এক পশু চিকিৎসককে। বছর ছাব্বিশের ওই তরুণী চিকিৎসক হায়দরবাদের কাছে সামশাবাদের টোলপ্লাজায় নিজের স্কুটিটি রাখেন। সেখান থেকে কাছেই একজন ত্বকের চিকিৎসকের কাছে যান। রাত নটার সময় টোলপ্লাজার কাছে পৌঁছান তিনি। দেখেন, তাঁর স্কুটির একটি চাকা ফুটো হয়ে গিয়েছে। ঠিক ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ছিল ওই তরুণীর বোনের। তিনি শেষবার ফোনে ভয় লাগছে বলে জানান বোনকে। তারপর থেকে ফোন সুইচড অফ হয়ে যায় ওই চিকিৎসকের। পরেরদিন সাধনগর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি ব্রিজের নিচে তরুণীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।
দেহ উদ্ধারের পরদিনই এক লরিচালক সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।এরা হল জুল্লু নবীন , মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা এবং চিন্তাকুনটা চেন্নাকেশাভুলু।
গণধর্ষণের ঘটনাক্রম
২৭ নভেম্বর, বিকেল ৫.৩০: মূল অভিযুক্ত জুল্লু নবীন এবং লরি চালক আরিফ কয়েক বোতল মদ কেনে। সামসাবাদ টোল প্লাজার কাছে লরির কেবিনের মধ্যে বসে মদ্যপান করছিল চার জন।
সন্ধে ৬.০০: চার দুষ্কৃতী দেখে, তাদের লরির পাশেই একটি স্কুটি দাঁড় করিয়ে রাখছেন এক তরুণী। তার পর তিনি একটি ক্লিনিকে ঢুকে যান। তখনই চার জন ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। স্কুটির পিছনের চাকা পাংচার করে দেয় নবীন।
রাত ৯.০০: এর পর চার দুষ্কৃতী তাদের লরিটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে থোন্ডাপল্লির কাছে নিয়ে যায়। গাড়ি চালাচ্ছিল আরিফ।
রাত ৯.১৮: নির্যাতিতা তরুণী স্কুটির কাছে এলেন। কিন্তু দেখলেন স্কুটি পাংচার।
রাত ৯.৩০ থেকে ভোর ৪: এক অভিযুক্ত শিবা তরুণীকে সাহায্যের নাম করে স্কুটিটি এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে এসে তাঁকে বলে, সমস্ত মেরামিতর দোকান বন্ধ। এর পরেই স্বমূর্তি ধরে চার জন। তরুণীকে জাপটে ধরে টেনে হিঁচড়ে লরির পিছনে একটি পরিত্যক্ত এলাকায় নিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত নবীন তরুণীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়।
তার পরেই তরুণী চিকিৎসক চিৎকার করতে শুরু করলে নবীন তাঁর মুখে মদ ঢেলে দেয়। তার পর চলে নৃশংস অত্যাচার ও ধর্ষণ। তার জেরে তরুণী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ফের চিৎকার করতে শুরু করেন। তখনই দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে।
আরিফ তাঁর মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণী। নবীন তাঁর ফোন, ঘড়ি ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিয়ে নেয়।
এর পর শুরু হয় দেহ লোপাটের কাজ। চার জন মিলে দেহটি তাদের ট্রাকে তোলে। শিবা ও নবীন তরুণীর স্কুটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। রাস্তায় শিবা একটি বোতলে পেট্রোল কিনে নেয়। এর পর লরি চালিয়ে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর চাতানপল্লির কাছে কালভার্টের নীচে নিয়ে যায়। মৃতদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
২৬ নভেম্বর, ভোর ৪: ভোর ৪টে নাগাদ চার জন আরামগড়ে পৌঁছয়। সেখান থেকে শিবা, নবীন ও চেন্নাকেশাভুলু নিজের নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।