বুদ্ধিজীবীদের ‘‌নেমকহারাম’‌ এবং ‘‌ননসেন্স’‌ বললেন দিলীপ ঘোষ

15th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
বুদ্ধিজীবীদের ‘‌নেমকহারাম’‌ এবং ‘‌ননসেন্স’‌ বললেন দিলীপ ঘোষ


নিউজ ডেস্কঃ ফের বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের। এবার বুদ্ধিজীবীদের ‘‌নেমকহারাম’‌ এবং ‘‌ননসেন্স’‌ বললেন। এমনকি তাঁদের সঙ্গে পরজীবীদের তুলনাও করলেন। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে তাঁর প্রশ্ন, ‘‌ওঁদের কী অবদান আছে বিজ্ঞানে?‌’‌ এরপরই দিলীপের সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিভিন্ন মহল।
সম্প্রতি নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বুদ্ধিজীবীরা ‘‌কাগজ দেখাব না’‌ বলে প্রচার চালিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে বুধবার রাজ্য বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌বুদ্ধিজীবীরা পরজীবীদের মতো বেঁচে আছে। অন্যের ঘাড়ে বসে খাচ্ছে। তারা বলছে, কাগজ দেখাব না। কাগজ ছাড়া এয়ারপোর্টে ঢোকা যাবে? এরকম অনেক জায়গাতেই কাগজ দেখাতে হয়। ‌ ননসেন্স কথা। এসব ডায়লগ মেরে কী হচ্ছে?‌ এরা নেমকহারাম। এঁরা কী বললেন তাতে দিলীপ ঘোষের কিছু যায় আসে না।’‌
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এইধরণের কথা হিংসা বাড়ায় কিনা। রাজ্য সভাপতি তখন বলেন, ‘‌এখন যাঁরা এতে হিংসা দেখছেন, তাঁরা সিদ্ধার্থশঙ্করের জয়জয়কার করতেন। তাঁদের কেউ এখন নেতা, কেউ মন্ত্রী। তখন যত মানুষ, যত যুবককে খুন করা হয়, তাতে তাঁদের পাপ হয়নি?‌ তা স্খালন হয়েছে?‌ এঁরা ভদ্র হয়ে গেছেন!‌’‌ 
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর মঙ্গলবার অর্জুনের তীরে পরমাণু, উড়ানযান এসব মহাকাব্যের আমলে ছিল বলে জানান। তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুললেও দিলীপবাবু আবার রাজ্যপালের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজগুবির পাশাপাশি দাঁড়াল আজগুবি বক্তব্যই।  দিলীপের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‌বিজ্ঞানে বিজ্ঞানীদের কী অবদান আছে?‌ তাঁরা যে বিরোধিতা করছেন, তার সপক্ষে কী প্রমাণ আছে?‌  ওনাদের থেকে সবাই কম বিদ্বান?‌ ওঁদের জানার বাইরেও অনেক কিছু আছে। আমাদের দেশে পুরাণ রামায়ণ মহাভারত নিয়ে মানুষের বিশ্বাস আছে। আমরা মান্যতা দিই। ওঁরা বরং রামের বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে আসুন।’‌ প্রতিবাদীদের ওপর গুলিচালনা নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে অটল রইলেন। বলেন, ‘আমার দম আছে। আমি যা বলেছি, ভেবেচিন্তে বলেছি। ঠিক বলেছি। আমি সোজা কথা বলি। বাংলার মানুষ তা পছন্দ করেন। ‌আমরা ক্ষমতায় এলে, কেউ যদি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে তবে লাঠি মারব, জেলে পাঠাব, গুলি চালাব। যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের আবার বলছি, মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য যা করা দরকার, তাই করব। কেউ কেউ বলেন, জনগণ দেখবে। জনগণ ফুটে ফুটে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দেখছে। এবার বাকিটা আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। আমি দিলীপ ঘোষ, আর ডায়লগ বলব না। আমরা অনেক সহ্য করেছি। আর নয়।’‌ ‌





Others News

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের

‘কাশ্মীরের ধৃত DSP সিং না হয়ে খান হলে কী হত?’, বিজেপিকে জিজ্ঞাসা অধীরের


নিউজ ডেস্কঃ জঙ্গিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে কাশ্মীরের ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০১ সালের সংসদ হামলার মূলচক্রী হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলা আফজল গুরুকে দিল্লিতে এক জঙ্গিকে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দেবেন্দ্র। সেই জঙ্গিই পরে সংসদে হামলা চালায়। শুধু এই ঘটনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে সে। এই বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি। সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত ডি এস পি দেবেন্দ্র সিং যদি শিখ না হয়ে মুসলিম হত তা হলে কী হত? এত বড় মাপের একজন পুলিশ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ার পরে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ঘটনার ফের তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার এই বিষয়ে একাধিক টুইট করে কোনওভাবেই দেশের শত্রুদের যাতে ছাড়া না হয় তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে যেন তাদের ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে সেকথাও উল্লেখ করেন। টুইট করে প্রশ্ন করেন, ‘দেবেন্দ্র সিংয়ের বদলে ওই ডিএসপি’র নাম যদি দেবেন্দ্র খান হত। তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ -র ট্রোল রেজিমেন্টের আক্রমণ আরও তীব্র ও কৌতূকপূর্ণ হত। আমাদের দেশের শত্রুদের শরীরের রং, বর্ণ এবং ধর্ম নির্বিশেষে নিন্দিত হওয়া উচিত।’